মালাকার বাড়িতে ঠাকুর সেবার (ভোগ রান্নার )জন্য কর্মচারী রাখা হয়েছিল।
আমি ঠাকুরের নিকট যাইয়া দেখি সেখানে পিতাঠাকুর, বড়দি ও ঠাকুরভাই বসিয়া আছেন।
আমিও বসিয়া পড়িলাম।
এমন সময় বড়দা সেখানে উপস্থিত হইলে ঠাকুর মহাশয় বলিলেন, বসেন।
বড়দা বসিলেন।
আমার নিজস্ব প্রয়োজন বলতে কিছুই নাই। আমি গুরুর আদেশে, জীবের প্রয়োজনে দ্বারে দ্বারে ঘুইরা ফিরছি।
আমি দরিদ্র ভিখারী ব্রাহ্মণ, আপনাগো আশ্রয়ে আসছি।
আপনেরা দয়া কইরা আশ্রয় দিছেন। আশ্রিত পালন ধর্ম ।
শাস্ত্রে এর বহু দৃষ্টান্ত আছে। আমার মত গরীব আশ্রিতের সেবার জন্য কোন লোকের প্রয়োজন হয় কি? প্রয়োজন হয় যেহেতু আপনারা ধনী, মানী ব্যক্তি। এমন নিকৃষ্ট আশ্রিতের সেবা করলে সেইটা আপনেগো মাত ধনাঢ্য লোকের মানে বাঁধে। লোকের নিকট হাস্যাস্পদ হইবেন। ঠাকুর কিছু সময় নীরব থাকিয়া পুনরায় বলিতে লাগিলেন, আপনেরা ক পয়সার ধনী আমার জানা আছে ।
এত অল্প ধনে এত পোদ্দারী কেন?
আপনেগো থাইকা লক্ষ লক্ষ গুণ শ্রেষ্ট ধনবান লোক আমার জানা আছে, যাঁরা লালসায় হন্য দিয়া ঘুইরা মরছে। সেবা কি গাছের ফল যে কুড়াইয়া পাওয়া যায়? লক্ষ লক্ষ জন্মের তপস্যালব্ধ ধন সেবা। সেবার অর্থ হইল নামের নিকট থাকা ।
নামের সঙ্গ নিয়া সেবা না করলে সেইটা হইয়া পড়ে কুসেবা ।
আমি আপনেগরে কুসেবার লিপ্ত করতে চাই না। আমি ঝড়ের কুটা ঝড়ের মুখে আসছি, পুনরায় ঝড়ের মুখে চইলা যামু।
আমার জন্য আপনেরা, শুধু আপনেরাই কেন, জগতের যে কেহ কষ্ট ভোগ করুক তা আমার ঈপ্সিত নয়। আমার স্বভাব ভাল নয় বইলা আমারে ভালবাসে না। আমি কারোও সুখের কণ্টক হইতে চাই না। এই বলিয়া ঠাকুর নীরব হইলে
বড়দা -----
" বাবা গো, বাবা গো শব্দে পায়ে লুটাইয়া কাঁদিতে লাগিলেন এবং পুনঃ পুনঃ বলিতে লাগিলেন, বাবা সব দোষ আমার ।
আমি সেবার কিছুই জানি না, করতেও ভয় পাই। মণী , ফনী বাড়ি নাই। সেই জন্য সকলের অগোচরে এই ব্যবস্থা করেছিলাম। আমার অপরাধ ক্ষমা করেন, বাবা আমি মহা অপরাধী "।
ঠাকুর দক্ষিণ হাত বড়দার মাথায় রাখিয়া বলিলেন, আমি কারোও অপরাধ গ্রহণ করি না । এই সকলি আমার ভাগ্যলব্ধ। আমি ফোঁস করি, কামড় দেই না।
ইহার পর ঠাকুর প্রণাম করিয়া সকলে বাহিরে আসিলাম।
নূতন ভাবে সব কিছু তৈয়ার করিয়া রাত্রি ৯টায় ঠাকুর
ভোগ দিলাম। ঠাকুর কৃপা করিয়া গ্রহণ করিলেন।
এই সংবাদ শুনিয়া বাড়ির সকলে সন্তুষ্ট হইলেন।
ফনীন্দ্রকুমার মালাকার ।
রাম ভাইস্মরণে ।
পৃষ্ঠা সংখ্যা ১০৬ হইতে ।
.jpg)
No comments: