ঠাকুর আশ্রমবাসি কোনদিন ছিলেন না। ভক্তের বাড়িতে পরিবারের একজন হয়ে থাকতেই পছন্দ করতেন। অশক্ত দেহ নিয়েও ঠাকুর এখানে সেখানে ঘুরে বেড়াতেন। কোথাও স্থির হয়ে থাকতেন না। অপটু দেহ নিয়ে এমনি দিনের পর দিন ঘুরে বেড়ানো ঠাকুরের পক্ষে কষ্টকর হয়ে পড়েছিল। অবশ্য এই অসুবিধার কথা মুখ ফুটে তিনি কোনদিন বলেন নি।
অবশেষে পাহাড়তলী চট্টগ্রাম আশ্রম স্থাপিত হলো।
তিনদিন ব্যাপী উৎসব অনুষ্ঠিত হল। অগণিত নরনারী উৎসব-ক্ষেত্রে সমবেত হয়ে ঠাকুরকে নিয়ে কতই না আনন্দ করলেন। সকলেই ভাবলেন, এইবার চমৎকার ব্যবস্থা হল। ঠাকুর এখন আশ্রমবাসি হলেন, ভক্তেরা সুবিধামত এসে তার চরণ দর্শন করবেন।
কিন্তু হায়! ত্রি-রাত্রি আশ্রমে অবস্থানের পরেই ঠাকুর বলে উঠলেন, 'আচ্ছা, এখন তবে আসি।' কার সাধ্য তাঁকে বাধা দিবে? ঠাকুর ধীরে ধীরে পাহাড় থেকে নেমে শহরের পথ ধরলেন। ঠাকুরের সুসজ্জিত কক্ষ ঠিক নতুন অবস্থায়ই পড়ে রইল।
সেই বৎসর আশ্রমে দুর্গোৎসবের আয়োজন হল। রব উঠলো, পূজায় শ্রীশ্রীঠাকুর আশ্রমে উপস্থিত থাকবেন।...... কিন্তু ষষ্ঠী গেল, সপ্তমী এলো, কিন্তু ঠাকুর এলেন না----এলো তাঁর দীর্ঘ একখানি পত্র। ঠাকুর লিখেছিলেন, ----' স্থূল দেহে ঐ আশ্রমে প্রবেশের অধিকার আমার থাকলো না। গুরুদেব আশ্রমের ভার গ্রহণ করলেন।'
জয়রাম 

"শ্রীশ্রীঠাকুর রামচন্দ্রদেব" - শ্রীসুশীলচন্দ্র দত্ত।
.jpg)
No comments: